4th day

পর্ব ৫ঃ ফিটনেস জারি রাখা ও তলপেটের মেদ

(কিভাবে ফিটনেস প্রোগ্রাম কন্টিনিউ করবেন এবং ডাবল চিন, তলপেটের মেদ কমাবেন)

যে কোন কঠিন কাজ করার একটা সিম্পল উপায় আছে। কাজটাকে অনেকগুলো ছোট ছোট ম্যানেজেবল অংশে ভাগ করে একটু একটু করে করা শুরু করা।আমার ওজন যখন একশ কেজির বেশি ছিল, জানুয়ারির ছয় তারিখ আমি সিদ্ধান্ত নিলাম- এনাফ ইজ এনাফ। আমার প্রথম পদক্ষেপ কি ছিল জানেন?

ভোরবেলা উঠে নাস্তা করা। আমি জীবনেও সকালে নাস্তা করতাম না- দুপুরে ক্ষুধা লাগলে সানি ভাইয়ের বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে দুই প্লেট বিরিয়ানি এক বারে খেতাম, তারপর আইসক্রিম অথবা লাচ্ছি। সারাদিনে আমার সুন্দর সময় কাটত খাবার দাবারের কথা চিন্তা করে, একবার খাবার পর নেক্সট কি খাব এটা নিয়ে গবেষণা করে।উইকিপিডিয়াতে বিভিন্ন দেশের খাবারের বর্ণনা পড়তাম আর মনে মনে চিন্তা করতাম টোকিওতে কোথায় এসব পাওয়া যায়।

প্রথম সাত দিন আমি প্রতিদিন একটা করে নতুন পদক্ষেপ নিতাম ফিজিকাল ফিটনেসের লক্ষ্যে। সাত দিনের বর্ণনা দিইঃ

প্রথম দিনঃ সকালে ব্রেকফাস্ট করা, যেটা কখনোই করতাম না।

দ্বিতীয় দিনঃ সকালে ব্রেকফাস্টে কিটক্যাট/স্নিকারস বারের বদলে ডিম আর দুধ খাওয়া, এস্কেলেটরের বদলে সিঁড়ি বেয়ে ট্রেন স্টেশনে ওঠা।

তৃতীয় দিনঃ লাঞ্চে বিরিয়ানি না খেয়ে জাপানী বেনতো বক্স খাওয়া, যেটা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

চতুর্থ দিনঃ মার্শাল আর্ট ক্লাসে এক ঘন্টা এক্সারসাইজ করা।

পঞ্চম দিনঃ ডিনারের পর কোক না খেয়ে পানি খাওয়া

ষষ্ঠ দিনঃ প্রথম বারের মত ভার্সিটি জিমে স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা ( শুধু স্কোয়াট করেছিলাম বারবেল দিয়ে, বিশটা- দুই সেটে)

সপ্তম দিনঃ সারাদিনে কোন রকমের কোক/চকলেট না খাওয়া। তিন বেলার বদলে দুই বেলা খাওয়া।

এভাবে আট সপ্তাহ প্রতিদিন আমি ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে গিয়েছি। সময়ের সাথে সাথে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো একসাথে মিশে আমার কুৎসিৎ ভুঁড়িটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, ফুটবলের মত গালের মাংস কমিয়ে একটা সহনীয় পর্যায়ে এনেছে।

এক ধাক্কায় দুই ঘন্টা জিম করে আর সাত দিন কিচ্ছু না খেয়ে ফিজিকালি ফিট হবার কথা ভুলে যান। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোর প্রতি নজর দিন।প্রতিদিন তিন গ্লাস কোক খেতেন? আজকে দুই গ্লাস খান, পরের দিন এক গ্লাস। জাপানে একটা প্রবাদ আছেঃ A big shot is actually a small shot who keeps shooting continuously.

এই তো গেল সার্বিক স্ট্র্যাটেজি। সারাদিনে একটাও যদি ছোটখাট বিজয় আসে, এটাও কিন্তু বি-শা-ল ব্যাপার।

আমার ডেস্কে বডিবিল্ডার জেসন হুইটক (Jason Whittock) আর বলিউডের ঋতিক রোশনের দুটো ছবি পাশাপাশি আছে, আর মাঝখানে আছে আমাদের মিস্টার বাংলাদেশ Hitman Hart স্বপন ভাইয়ের ছবি।পড়ার ফাঁকে ফাঁকে এই ছবিগুলো তাকিয়ে দেখি। এক জাপানি বান্ধবী আমার ডেস্কের উপর রাখা এই ছবিগুলো দেখে বলেছিল, কি ব্যাপার- তুমি কি তোমার ওরিয়েন্টেশন পাল্টেছ? আমি হেসে বলেছিলাম, “না,আমি একদিন এদের মত শরীরের অধিকারী হতে চাই”।

যখন প্রচন্ডভাবে বিরিয়ানি/কেক/প্যাস্টি/বাটার চিকেন খেতে ইচ্ছে করে- এই ছবিগুলোর দিকে তাকাই। তারপর নিজেকে বলিঃ “Some day my picture will inspire others too. By refusing to take that chocolate cake, I am taking myself one step closer to that glory”.

আপনার “গ্লোরি” কি? সিক্স প্যাক এ্যাবস? দুর্দান্ত একটা লাভমেকিং সেশন? সী বীচে খালি গায়ের সুঠাম দেহের সেলফি? অফিস ফুটবলে সেরা খেলোয়াড়ের ক্রেস্ট? ত্রিশ কেজি ওভার ওয়েট থেকে হারকিউলিসের মত ফিটনেস অর্জন??

এর প্রতিটা আপনি করতে পারবেন, এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো আপনাকে সেই পথেই এগিয়ে নিয়ে যাবে। সামনে কাচ্চির প্লেট যখন দেখবেন, ওখান থেকে মাংসের টুকরোগুলো আর সালাদটুকু খেয়ে ভাত আর আলু সরিয়ে দিন। মনে রাখবেন, এ্যাথলেটরা মাত্র পনের সেকেন্ডের সম্মানের জন্যে পনের বছর সংগ্রাম করে, আর আপনি ফিজিকাল ফিটনেসের সুফল ভোগ করবেন আমৃত্যু।

এবার আসি ডাবল চিন আর তলপেট কমানোর স্ট্রাটেজিতে।

এ পর্যন্ত যেখানে যত জায়গার যত বই পড়েছেন, যত এ্যাড দেখেছেন যেখানে দাবী করা হয় যে শরীরের বিশেষ কোন জায়গায় (স্পট) মেদ আলাদা ভাবে কমানো সম্ভব- সবগুল ডাস্টবিনে চাক্কা দিয়ে ফেলে দিন। আলাদাভাবে গালের মেদ ( আমার যেমন ছিল) বা তলপেটের মেদ কখনোই কমবেনা। আপনার শরীর থেকে সামগ্রিক মেদ যখন কমবে, তখন আস্তে আস্তে এগুলোও চলে যাবে। কাজেই, নিজের শরীরের সামগ্রিক মেদ কমাতে ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করুন, প্রতিদিন আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করুন, দুই তিন লিটার পানি খান এবং ছয়-সাত ঘন্টা ঘুমান- এক মাসের মাথায় ম্যাজিকের মত ফল পাবেন।

আবারও বলি, স্বাভাবিকভাবে দেহের কোন অংশের মেদ আলাদা ভাবে কমানোর কোন উপায় নেই। আরনল্ড শোয়ার্জেনেগারের এনসাইক্লোপিডিয়া অফ বডিবিল্ডিং থেকে শুরু করে সর্বশেষ যতগুলো নামকরা রিসার্চ বেইজড বই আছে- সব গুলোতে এই তথ্যই দেয়া। কেউ যদি স্পট রিডাকশনের প্রতিশ্রুতি দেয়, ধরে নেবেন সে জালিয়াতি করছে।

ছবিতে দেখবেন, আমার গাল উধাও, গালের জন্য আলাদা এক্সারসাইজ করা লাগেনি মোটেই!!
“ভাইয়া আমার হিপ মোটা, থাই তে ফ্যাট বেশি, মধ্যপ্রদেশ ড্রামের মত”- এই সব কিছুর সমাধান হচ্ছে দেহের বডি-ফ্যাট পার্সেন্টেজ কমানো। কিভাবে কমাবেন তা তো এই সিরিজের আগের পর্বগুলোতে জেনেছেনই!

লড়াই জারি রাখুন! হ্যাপি উইকেন্ড!!!

 

প্রথম প্রকাশিতঃ ১২ই মার্চ, ২০১৬

Comments

comments