প্রিয় বইঃ বইমেলা ২০১৯ (পর্ব- এক)

সুদূর আমেরিকা থাকায় এবার প্রাণপ্রিয় বইমেলায় যেতে পারছিনা, কিন্তু মন পড়ে রয়েছে ওখানেই।দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ঠিক করেছি পরিচিত লেখকদের মধ্যে যেসব বই অতি-অবশ্যই সংগ্রহ করতাম সেটার একটা লিস্ট করব। নীচের লিস্টটা একেবারেই প্রাথমিক লিস্ট, দিনে দিনে এটার সাথে যুক্ত হবে আরও নাম। এই বইগুলোর লেখকদের লেখার সাথে আমি পরিচিত, বিশ্বাস করি এই বইগুলো শুধু মানসিক উৎকর্ষ নয় বরং জাগতিক উন্নতিতেও কাজে লাগবে।

বইয়ের ব্যাপারে আমি নির্মম,কঠোর; পড়ে যদি আগ্রহ বোধ না করি সেই বইয়ের কথা কখনওই লিখিনা।আমি আগ্রহ বোধ করিনি মানেই যে বইটা খারাপ এমন আত্মশ্লাঘাপূর্ণ দাবী করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছিনা, এই লিস্টের বাইরেও অনেক দারুণ বই আছে নিশ্চিত।আমার অনেক বন্ধুবান্ধব, ফেসবুক ফলোয়ারগণ বইয়ের ব্যাপারে আমার রূচির উপর ভরসা রাখেন, এই ব্লগটি মূলতঃ তাঁদের জন্য- যেন সহজেই তাঁরা বইমেলায় গিয়ে কিছু বই সংগ্রহ করতে পারেন।লিস্টটা বইমেলার সময় গড়ানোর  সাথে সাথে আপডেটেড  হবে আশা করি, নতুন নতুন নাম যোগ করব।

আর কথা না বাড়িয়ে সোজা লিস্টে চলে যাচ্ছিঃ

সাহিত্যঃ 

পদতলে চমকায় মাটি- সুহান রিজওয়ান
ঐতিহ্য ( সোহরাওয়ার্দি উদ্যান অংশের প্যাভেলিয়ন ৬)

অসম্ভব মেধাবী এই লেখক এর আগে বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে লিখেছিলেন  “সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ”। তাঁর নতুন উপন্যাস “পদতলে চমকায় মাটি”- পাহাড়ি জনপদের মানুষদের সুখদুঃখ আর সংগ্রাম নিয়ে।বইটি  লিখতে লেখকের গবেষণা এবং পরিশ্রমের কথা ব্যক্তিগতভাবে জানি, আমি নিশ্চিত এটিও একটি মাস্টারপিস হতে যাচ্ছে।পাহাড়ের মানুষদের জীবনসংগ্রামকে পাহাড়ি না হয়েও হয়েও লেখক ঠিক কিভাবে কোন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন- এটি দেখবার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছি!

বগি নম্বর জ-লুৎফর হাসান 
নাগরী প্রকাশ, স্টল#২২৮

কবিটা এবং সুরের জগতের মানুষ লুৎফর হাসান তাঁর ছাত্রাবস্থায় দেখা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রের যে টানাপোড়েনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, রাজনৈতিক যে কুৎসিৎ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়- এই অজানা কাহিনী নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন বইটিতে। সেই সময়ের ছাত্ররাজনীতিকে চিনতে হলে, একজন সাধারণ ছাত্রের এই ঝড়ঝঞ্ঝার ভেতর দিয়ে যাবার গল্প শুনতে হলে এ বইটি পড়ুন!

কে হায় হৃদয় খুঁড়ে- গুঞ্জন রহমান 
নাগরী প্রকাশ, স্টল নং ২২৮

মানব সম্পর্কের অপূর্ব, অদ্ভুত গল্পগুলো সুলেখক গুঞ্জন রহমান তুলে এনেছেন তাঁর জাদুকরী লেখনীর মাধ্যমে। এই গল্পগুলোতে এসেছে ভীতু মেডিকেল ইন্টার্ন জাহিদের প্রবল বিক্রমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হবার গল্প, “গিফট অফ দ্য ম্যাজাই” এর মত আত্মত্যাগের কথা, এয়ারপোর্টে মানুষ দেখতে আসা বিচিত্র এক ব্যক্তিত্ব জীবনবোধের গল্প।পাঁচটা ভিন্ন স্বাদের গল্প, সবগুলোই চিত্তাকর্ষক।

গল্পের বই- সাইফুল আযম চৌধুরী মুকুল 
পেন্সিল পাবলিকেশন্স (স্টল-৫৭৩)

এই ভদ্রলোক ছোটগল্পের জাদুকর- বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে এমনভাবে লেখেন যে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায়না।প্রচণ্ড ধারালো হাতে হাস্যরস মিশিয়ে নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের যন্ত্রণাগুলো কিছুটা থ্রিলার কিছুটা কমেডি আকারে তুলে ধরেছেন খুব সহজ ভাষায় লেখা “গল্পের বই”-এ। অবশ্যপাঠ্য।

বৃক্ষচারী- মাসউদুল হক 
নাগরী প্রকাশ (স্টল নং ২২৮)

কথাসাহিত্যিক মাসউদুল হকের সর্বশেষ উপন্যাস “দি লস্ট কমরেড” বাংলা সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাম রাজনীতির ত্যাগ তিতিক্ষা এবং ভুলভ্রান্তিকে একই সূত্রে গেঁথে এত মর্মস্পর্শীভাবে খুব কম লেখকই তুলে ধরতে পেরেছেন, তাই তাঁর লেখার ভক্ত আমি আগে থেকেই। এই লেখক লেখেন অল্প, তবে যা লেখেন সময় নিয়ে, প্রচণ্ড পরিশ্রম করে লেখেন। উনার ছোটগল্পের সংকলন বৃক্ষচারীতেও এই বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে বলে আমি মনে করি। বাংলা সাহিত্যের বিলুপ্তপ্রায় ধারা স্যাটায়ারকে তিনি ব্যবহার করেছেন, ভিত্তি করেছেন মিথোলজি, নৃতত্ত্ব আর মনোবিজ্ঞানকে। প্রতিটা গল্প লিখতে গড়ে সময় নিয়েছেন ছয় মাসের মত।যত্ন করে লেখা এই বইটি পাঠকের ভালোবাসায় ধন্য হবে বলে আমার ধারণা।

অভাজনের মহাভারত- মাহবুব লীলেন
বাতিঘর প্রকাশনী (স্টল ১২১-১২২)

মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য মহাভারতকে এত অসামান্য রকমের যুক্তিপূর্ণ, সরস ভাষায় খুব কম লেখকই তুলে ধরতে পেরেছেন। বাংলাদেশের আঞ্চলিক  শব্দের ব্যবহার করে নিজস্ব তৈরি ভাষায় এত দুর্দান্ত সফলভাবে যে মহাভারতের মত গুরুগম্ভীর একটা মহাকাব্যকে সফল ও সার্থকভাবে প্রকাশ করা যায়, এ বইটা না পড়লে বুঝতাম না। প্রতিটা মানুষের মহাভারত পড়া উচিৎ, আর মহাভারতের অমৃতরসে নিমজ্জিত হতে চাইলে শুরু হিসেবে এই সরস বইটইর বিকল্প সাম্প্রতিক সময়ে নেই। অতি অবশ্যই সংগ্রহ করুন!

বীরগাথা- দেলোয়ার হোসেন খান 
নালন্দা( প্যাভেলিয়ন নং ১০)

বই লিখে সেনা পারদর্শিতা পদক পাওয়া  বাংলাদেশের একমাত্র সেনাবাহিনীর অফিসার মেজর দেলোয়ার, যাঁর “আধুনিক দৃষ্টিতে সান’জুর আর্ট অফ ওয়ার” আপনারা অনেকেই পড়েছেন। এ বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের যুদ্ধের গল্প নিখুঁতভাবে সামরিক খুঁটিনাটি সহ বর্ণিত হয়েছে, যেটা এর আগে কখনো হয়নি। আজাদ রহমানের করা প্রচ্ছদ ও অলংকরণেও রয়েছে পরিশ্রমের ছাপ যাতে সেই সময়ের যুদ্ধাস্ত্র ও পোশাক আশাক ত্রুটিহীনভাবে এসেছে। দেশকে ভালবাসেন এমন সবাই বইটা পড়লে আনন্দ পাবেন, জানতে পারবেন আমাদের সুপারহিরোদের গল্প।

সূর্যসীমানা- কোহিনূর রহমান 
আফসার ব্রাদারস- স্টল ৫২১-৫২৪

সত্য ঘটনা অবলম্বনে একজন বর্ষীয়ান নারীর মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস এটি, যিনি নিজ চোখে দেখেছেন মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনও হাজার হাজার কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে, এই বইটা এই বাকি রয়ে যাওয়া কাজগুলোর কিছুটা অভাব পূরণ করবয়ে বলে আমার বিশ্বাস

বিজ্ঞানঃ 

বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা- রাগিব হাসান
আদর্শ পাবলিকেশন্স

বাংলার ব্লগোস্ফিয়ারে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কজন মানুষ নিরলসভাবে বিজ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এবং আত্মউন্নয়নের পথ তরুণদের দেখাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে রাগিব হাসানকে একেবারে প্রথম সারিতে রাখতে হবে। আমেরিকা প্রবাসী এই গবেষক  কিভাবে গবেষণা করতে হয় এ নিয়ে বাংলায় প্রথম সহজ ভাষায় লেখা বই “গবেষণায় হাতেখড়ি” এর রচয়িতা। বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা-২ বইটইতে তিনি দেশ বিদেশের চব্বিশজন বিজ্ঞানীদের জীবনের গল্প অত্যন্ত সরস ও সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরেছেন। পুত্রকে ঘুম পাড়ানোর সময় বিজ্ঞানীদের গল্প শোনাতে গিয়ে গবেষক পিতার হাতে সৃষ্ট এ বইটার আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর দুর্দান্ত প্রচ্ছদ।

মেঘে ঢাকা তারা- অতনু চক্রবর্তী
ঐতিহ্য( প্যাভেলিয়ন ৬)

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু , মেঘনাদ সাহা কিংবা সত্যেন বোস ছাড়াও বাঙালি জাতি জন্ম দিয়েছে বিশ্বমানের রসায়নবিদ, গণিতবিদ, মহাকাশবিজ্ঞানী আর ভূতত্ত্ববিদদের। পরিতাপের বিষয়, এক দুজন বাদে এনাদের নাম অথবা কাজ কোনওটার কথাই আমরা জানিনা। বিজ্ঞানের ছাত্র অতনু চক্রবর্তী এই হারিয়ে যাওয়া মনিমুক্তো তুলে এনেছেন সাগর সেঁচে, বিস্মৃতির মেঘে ঢেকে যাওয়া এই তারকাদেরকে নতুন করে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন। বইটইর প্রশংসা করেছেন  মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারও।

হাইজেনবার্গের গল্প- শামির মোনতাজিদ
তাম্রলিপ্তি ( ১৪ নং প্যাভেলিয়ন)


অক্সফোর্ডে পিএইচডিরত বাঙালি গবেষক শামির মোনতাজিদ তাঁর স্বভাবসুলভ রসাত্মক ভাষায় তুলে ধরেছেন দেশ বিদেশের বিজ্ঞানীদের গল্প, কিভাবে তাঁরা আবিষ্কারের পথে হাঁটলেন সেই যুদ্ধজয়ের অমর কাহিনী। বিজ্ঞানীরা যে অসামাজিক, ভীতিপ্রদ কেউ নন বরং আমাদের মতই সাধারণ মানুষ, আমরাও যে চেষ্টা করলে তাঁদের মত হতে পারি- এই গল্পগুলো পড়লে বুকের ভেতর সেই বিশ্বাসটুকু জেগে ওঠে।

বিজ্ঞানযাত্রাঃ ভলিউম দুই – ফরহাদ হোসেন মাসুম 
আদর্শ পাবলিকেশন্স

পিএইচডি গবেষক ফরহাদ হোসেন মাসুম সম্পাদিত ” বিরক্তি নয়, বিজ্ঞান হোক আনন্দের উৎস”-এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত একটি দুর্দান্ত সংকলন এ বইটি। সহসম্পাদক অনীক আন্দালিবও একজন যুক্তিবাদী মানুষ, যাকে প্রায় বাইশ বছর ধরে চিনি। এঁরা দুজন মিলে বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং কুসংস্কারের ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করে চলেছেন- যার একটি দারুণ ফলাফল এই সংকলনটি। এখানে আছে কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশন, আছে বিজ্ঞানের দর্শন, মহাকাশ বিজ্ঞান আর জীববিজ্ঞানের কথা, আছে সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রের কথা। এই সংকলনটি সবার ভালো লাগবে, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি আনন্দের সাথে চিন্তাকে নাড়া দেবার একটি দারুণ উপায় হতে পারে।

নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথ পরিভ্রমণ-চমক হাসান
আদর্শ পাবলিকেশন্স

বাংলাদেশের তরুণ সমাজে চমক হাসানকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়েনা, স্বমহিমাতেই তিনি উজ্জ্বল। গণিতের ভীতি দূর করতে এই মানুষটি খুব সহজ ভাষায় হাস্যরস মিশিয়ে লিখে চলেছেন একের পর এক বই, এ বইটই তার সর্বশেষ সংযোজন। ক্যালকুলাস ছাড়া বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অসম্ভব, অথচ আমরা নানা কারণে না বুঝে এটা মুখস্ত করি কোনরকম, তারপর ভুলে যাই। চমক হাসানের এই  সুপাঠ্য বইটি ছাত্রছাত্রীদের ভীষণ উপকারে আসবে, সেই সাথে যারা গবেষণা করতে চান তাদেরকেও সহায়তা করবে।

সেলফ-হেল্প

ভাইরে/আপুরে- শাব্বির আহসান
শব্দশৈলী (স্টল ৪০৪-৪০৫)

খুব সহজ ভাষায় লাইফ হ্যাকস এবং স্কিল ডেভোলপমেন্টের উপর এই বইটা আমি যদি আগে পেতাম, জীবনে হয়ত বহুদূর যেতে পারতাম। কিভাবে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে থেকেও বিশ্বমানের প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে তৈরি করা যায়, আপনি সরকারী/প্রাইভেট/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/স্কুলকলেজ যেখানেই পড়ুন না কেন কিভাবে হাতের কাছে যেসব রিসোর্স আছে সেসব দিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করবেন, হতাশা কাটিয়ে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেন এটা নিয়ে মোট আটচল্লিশটি ছোট ছোট লেখার সংকলন এই বইটই। লেখক শাব্বির আহসান এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্র- যিনি এক সময় ক্লাস নাইনে ফেইল করেছিলেন।সেনাবাহিনীর চাকুরী, উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই মানুষটির বইটা একটি আলোক-বর্তৃকা বিশেষ।অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই সংগ্রহ করবেন।

প্যারাময় লাইফের প্যারাসিট্যামল- ঝংকার মাহবুব
আদর্শ পাবলিকেশন্স

পড়তে বসতে ইচ্ছা না করা, লক্ষ্য হাতে নিয়েও বার বার হাল ছেড়ে দেয়া, সব জেনে বুঝেও সুযোগ নষ্ট করা- এই যে লাইফ প্রবলেমগুলো- সুলেখক ঝংকার মাহবুব খুব আন্তরিক ভাষায় কথ্য ভঙ্গীতে এগুলোর সোজাসাপ্টা সমাধান দিয়েছেন বইটায়। এটা যে আবারও বেস্ট সেলার হবে এ নিয়ে আমার এক বিন্দু সন্দেহ নেই!

পুলিশ লাইফঃ

অপারেশন রেবেল স্টর্ম- সোনালী সেন
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স

মেধাবী সহকর্মী সোনালী সেন লিখেছেন এই পুলিশ থ্রিলারটি। বাংলাদেশের পুলিশ অফিসারদেরকে সীমিত জনবল, ট্রেনিং আর হাজারটা সীমাবদ্ধতার ভেতরে থেকেও যে এভারেস্ট সমান উঁচু চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, তার  খুব কাছাকাছি থেকে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে এই লেখার সৃষ্টি। লেখিকার ভাষায়ঃ

খুনের পর খুন । সিরিয়াল কিলিং। কখনো ধর্মযাজক, কখনো বিদেশী অতিথি , ব্লগার,কখনো হিন্দু পুরোহিত , কখনো বা মসজিদের ইমাম।একই স্টাইল , একই রকম টার্গেট। জনগন অসুস্থ বোধ করছে।দিশেহারা আইন শৃংখলা বাহিনী।একটি আন্তর্জাতিক মানের রেঁস্তোরায় জঙ্গী হামলার ঘটনায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতি।একদল দক্ষ , তরুণ অফিসার নেমেছে এই রক্তক্ষয়ী আততায়ীদের বিরুদ্ধে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে আইন শৃংখলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকে।এ কাহিনী একটি নি:সঙ্গ বিদেশীনির জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ার গল্প। প্রেম, ভালবাসার অপর দিকে যার জন্য অপেক্ষা করেছে হিংস্র স্বার্থপরতা, মৃত্যুর বিভীষিকা। ধর্ম ও প্রেমের মোড়কে যাকে ব্যবহার করা হয়েছিল যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে।সুসংগঠিত উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে একঝাঁক তরুণ কর্ম কর্তার বুদ্ধিদীপ্ত অবস্থান, পারবে কি রুখে দিতে এই মৃত্যুর মিছিল?কি হবে শেষ পর্যন্ত “ অপারেশন রেবেল স্টর্ম ” এর ফলাফল?

যাপিত জীবনের কড়চা- মোঃ ইফতেখাইরুল ইসলাম
শব্দশৈলী (স্টল ৪০৪-৪০৫)

একজন পেশাদার পুলিশ অফিসারের কঠোর খোলস ভেদ করে যে অন্তর্নিহিত মানবিকবোধ ফুটে ওঠে  ভোরের প্রথম সূর্যকিরণের মত, লেখক এই বইটির ছত্রে ছত্রে সেটাই তুলে ধরেছেন। নানা দুর্নামের ভাগীদার বাংলাদেশের পুলিশ-এ কর্মরত একজন উচ্চপদস্থ অফিসার কিভাবে দেখেন সমাজকে? ঘুণে ধরা একটা সিস্টেমের ভেতরে বসবাস করে তিনি কি আসলেই পারেন নিজের মানবিকতাবোধকে ধরে রাখতে? এই প্রশ্নগুলোর খানিকটা উত্তর পাওয়া যাবে এই বইতে বর্ণিত নানা অভিজ্ঞতায়.

আপাততঃ এই বইগুলোর কথাই মাথায় এসেছে। পরের পর্বে আরও বইয়ের পরিচিতি নিয়ে আসব!  সঙ্গে থাকুন!

Comments

comments