police_husband_bore_death_231215-300x214

পুলিশরঙ্গ‬

কোমল কঠোরে মেশানো অদ্ভুত এক জীবন যাপন করে পুলিশ অফিসারেরা। খুনোখুনি, দাঙ্গা হাঙামা আর বিপদ নিয়েই তাদের কারবার। এ এমন এক জীবন, যেখানে ভুল করার সুযোগ খুব কম- কোম্পানি মুভিতে মাফিয়া ডন মালিক ভাইয়ের উক্তি পুলিশদের ক্ষেত্রেও সত্য: “হামারে ধান্ধে মে এক গলতি কো মাফ কারনা উসসে ভি বড়ি গলতি হ্যায়” , আমাদের ব্যবসায় একটা ভুল ক্ষমা করা তার চেয়েও বড় ভুল”

তবুও, পুলিশ জীবনেও রসকস আছে। বিচিত্র সব মানুষ ততোধিক বিচিত্র সমস্যা নিয়ে আসে পুলিশের কাছে, যেগুলো দেখে না হেসে পারা যায়না। আমার কাছে আসা এরকম পাঁচটা উদ্ভট অনুরোধের গল্প শোনাবো আজ:

 

পাঁচ

সিভিল পোশাকে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী সম্পর্কে তথ্য আদায় করতে গিয়েছিলাম। আমার কথা শুনে আবুল বলে, স্যার, ওর চেয়ে ভাল রেইটে ব্যবস্থা করতেসি, কয় পিস লাগবে খালি জানান। এই নেন স্যাম্পল: বলে ড্রয়ার থেকে স্যাম্পল বের করল।

উল্লেখ্য, আবুলকেও শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল।

 

চার‬

দিয়াবাড়ি চেকপোস্টের কাছাকাছি গাঞ্জা টানছিল এক নেশাখোর, হঠাৎ তার ম্যাচ শেষ হয়ে গেল। আশে পাশে কাউকে না পেয়ে পাশের টহল পুলিশদলের কাছে গিয়ে বলে, “ওই ঠোলা, গাঞ্জা খাইতাছি ম্যাচ দে”

ফলাফল: বুঝতেই পারছেন।

 

তিন‬

ভয়ঙ্কর এক খুনীচক্র ধরা পড়েছে, এদের হোতাকে ইন্টারোগেট করছি আমার অফিসে। প্রচন্ড ঘাঘু মাল, নেপালে ট্রেনিং নেয়া। একটা একটা খুনের বৃত্তান্ত শুনছি, আর রাগে আমার মুখ টকটকে লাল হয়ে উঠছে। বডিগার্ড আমার কোমর থেকে পিস্তল খুলে সরিয়ে রেখেছে, যাস্ট ইন কেইস। থানা পুরো গরম।

এমন সময় একটা ফোন এল: বাচ্চা একটা মেয়ে( মায়িশা নাম মনে হয়) বলল, “আঙ্কেল, আমার টেডি বিয়ারটাকে ভাইয়া জোর করে নিয়ে গিয়েছে, আপনি ভাইয়াকে প্লিজ প্লিজ ধরে নিয়ে যান”

হো হো করে হেসে উঠলাম, ক্লান্তি এক নিমেষেই উধাও! উল্লেখ্য , ফোনে মেয়েটির ভাইকে বলে তার টেডি বিয়ার ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ছোট্ট মায়িশাকে বলেছিলাম, এর পর যদি কেউ তার টেডি বিয়ার নিয়ে যায়, আমাকে যেন সাথে সাথে জানায়!

জানিনা, কেমন আছে ও

দুই‬

ঈদের দুদিন আগের কথা। এক ভদ্রমহিলা প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে ফোনে বললেন, এএসপি সাহেব, আপনি দ্রুত পুলিশ পাঠান। এই হচ্ছে ঠিকানা, এক্ষন এসে আমার হারামজাদা টেইলারকে এরেস্ট করেন। কাপড় দিতে দেরী করেছে, তার উপর বলে আমি নিজে না গেলে দেবেনা, কত্ত বড় সাহস!

আমি বললাম, ম্যাডাম, এটা তো আসলে অনেক বিরাট একটা অপরাধ, এত বড় অপরাধে আমার মত ছোট অফিসার একশন নিতে পারবেনা। আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বরাবর একটা আবেদন করুন, ওখান থেকে ওকে করলে আমি নিজে গিয়ে ব্যাটাকে শেয়ালের শিং দেখাবো। এই নিন ঠিকানা।

এখনো বসে আছি আদেশের অপেক্ষায়

মজার ব্যাপার, মঞ্জু নামে এক টেইলর গত দশ বছর ধরে আমার মা আর বোনের জামা বানায়। প্রতি ঈদেই সে দেরি করে এবং জামা নষ্ট করে ফেলে। এই ঘটনা শুনে ছোটবোনের মন্তব্য: “এই যন্ত্রনা তুই কি বুঝবি, ঠিকই তো আছে, মঞ্জুকেও এরেস্ট করা দরকার”

বুঝুন অবস্থা

 

ন্যুমেরো উনো: দ্যা নাম্বার ওয়ান‬

উত্তরাতে ডেভেলপমেন্ট চলছে এরকম কিছু কাশবনে পরিপূর্ণ জায়গা আছে, বেশ ছিমছাম। ওখানে এক ব্যক্তি দিনে দুপুরে এক রূপোপজীবিনীর সাথে আদিম খেলায় লিপ্ত ছিলেন। ভালবাসার উন্মাদনায় তিনি যখন চরম পুলকের কাছাকাছি, বাধ সাধল বেরসিক কুকুরের দল। পাশে পড়ে থাকা প্যান্ট মুখে নিয়ে সে দিলো ভোঁ দৌড়। ভাইজান যখন বুঝলেন তখন দেরি হয়ে গিয়েছে, ওই অবস্থাতেই তিনি তাড়া করলেন।

একটু দুরে পুলিশ টহল দল দেখল, আপত্তিকর অবস্থায় এক লোক হই হই করতে করতে কুকুর তাড়া করছে, কুকুরের মুখে প্যান্ট।

পাশের টং এর দোকানের কাপড়ের ব্যানার খুলে ওটা লুঙির মত পঁ্যাচিয়ে ভাইজানের সম্মান রক্ষা করা হল। দিনে দুপুরে অসামাজিক কাজের জন্য তাকে যখন পুলিশের গাড়ীতে তোলা হচ্ছিল, তখন তার অনুরোধ:

“স্যার , জেল জরিমানা যাই করেন আগে আমার প্যান্ট আইনা দ্যান”

না মানে বলছিলুম কি, চাকুরি হিসেবে পুলিশ একেবারে কম মজার না!!

Comments

comments